Apply for মাত্র ১ মাসে ওয়ার্ক পারমিট ভিসা নিয়ে থাইল্যান্ড
থাইল্যান্ডে ওয়ার্ক পারমিট ভিসা নিয়ে যাওয়ার পুরো প্রক্রিয়াটি কিছু ধাপ অনুসরণ করে সম্পন্ন করতে হয়। অনেকেই মনে করেন শুধু ভিসা পেলেই থাইল্যান্ডে কাজ করা যায়, কিন্তু আসলে সেখানে কাজ করার জন্য চাকরির অফার, নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এবং ওয়ার্ক পারমিট—এই তিনটি বিষয় খুব গুরুত্বপূর্ণ। নিচে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এ টু জেড প্রক্রিয়া বিস্তারিতভাবে দেওয়া হলো।
১. কাজ বা নিয়োগকর্তা খুঁজে পাওয়া
থাইল্যান্ডে কাজ করতে চাইলে প্রথম ধাপ হলো একটি বৈধ কোম্পানিতে চাকরি পাওয়া। সাধারণত তিনভাবে চাকরি পাওয়া যায়—
-
বাংলাদেশে লাইসেন্সপ্রাপ্ত ম্যানপাওয়ার এজেন্সির মাধ্যমে
-
অনলাইন জব পোর্টালের মাধ্যমে
-
থাইল্যান্ডে থাকা পরিচিত কারও মাধ্যমে
কোম্পানি যদি আপনাকে নিয়োগ দিতে রাজি হয়, তাহলে তারা একটি জব অফার লেটার বা নিয়োগপত্র দেয়। এই অফার লেটার ছাড়া ওয়ার্ক পারমিটের প্রসেস শুরু করা যায় না।
২. প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করা
চাকরি নিশ্চিত হওয়ার পর আবেদনকারীকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্ট প্রস্তুত করতে হয়। সাধারণত যেসব কাগজ লাগে—
-
বৈধ পাসপোর্ট (কমপক্ষে ৬ মাস মেয়াদ থাকতে হবে)
-
পাসপোর্ট সাইজ ছবি
-
শিক্ষাগত সনদপত্র
-
অভিজ্ঞতার সনদ (যদি থাকে)
-
মেডিকেল রিপোর্ট
-
পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট
এছাড়া নিয়োগকর্তা কোম্পানিকেও কিছু কাগজ দিতে হয়, যেমন—
-
কোম্পানির রেজিস্ট্রেশন কপি
-
ট্যাক্স ডকুমেন্ট
-
কোম্পানির লাইসেন্স
-
কোম্পানির পক্ষ থেকে স্পন্সর লেটার
৩. নন-ইমিগ্র্যান্ট বি ভিসা আবেদন
থাইল্যান্ডে কাজ করার জন্য প্রথমে যে ভিসা নিতে হয় সেটি হলো Non-Immigrant B Visa। এটি মূলত ব্যবসা বা কাজের উদ্দেশ্যে দেওয়া হয়।
এই ভিসার জন্য আবেদন করা যায়—
-
থাইল্যান্ডের দূতাবাসে
-
অথবা নির্দিষ্ট ভিসা প্রসেসিং এজেন্সির মাধ্যমে
ভিসা আবেদন ফর্ম পূরণ করে প্রয়োজনীয় কাগজ জমা দিতে হয়। সাধারণত ৭–১৫ কার্যদিবসের মধ্যে ভিসা অনুমোদন হতে পারে।
৪. থাইল্যান্ডে প্রবেশ
নন-ইমিগ্র্যান্ট বি ভিসা অনুমোদন হলে আবেদনকারী থাইল্যান্ডে প্রবেশ করতে পারেন। তবে মনে রাখতে হবে, এই ভিসা থাকলেই সরাসরি কাজ করা যায় না। কাজ শুরু করার আগে অবশ্যই ওয়ার্ক পারমিট নিতে হবে।
৫. ওয়ার্ক পারমিট আবেদন
থাইল্যান্ডে পৌঁছানোর পর নিয়োগকর্তা কোম্পানি শ্রম মন্ত্রণালয়ে কর্মীর জন্য Work Permit আবেদন করে। এই আবেদন সাধারণত কোম্পানিই করে থাকে।
ওয়ার্ক পারমিট আবেদনের সময় প্রয়োজন হয়—
-
পাসপোর্ট কপি
-
ভিসার কপি
-
কোম্পানির ডকুমেন্ট
-
চাকরির চুক্তিপত্র
-
ছবি
সাধারণত ৭ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে ওয়ার্ক পারমিট অনুমোদন হতে পারে।
৬. ওয়ার্ক পারমিট কার্ড পাওয়া
আবেদন অনুমোদিত হলে একটি ওয়ার্ক পারমিট বুক বা কার্ড দেওয়া হয়। এই কার্ডে কর্মীর নাম, কোম্পানির নাম, কাজের ধরন এবং কাজের জায়গা উল্লেখ থাকে।
এই কার্ড পাওয়ার পরই কর্মী আইনত কাজ শুরু করতে পারেন।
৭. ভিসা এক্সটেনশন
প্রথমে যে নন-ইমিগ্র্যান্ট বি ভিসা দেওয়া হয় সেটি সাধারণত ৯০ দিনের জন্য হয়। এরপর কোম্পানি চাইলে থাইল্যান্ডের ইমিগ্রেশন অফিসে আবেদন করে ভিসা ১ বছর পর্যন্ত বাড়াতে পারে।
ভিসা বাড়ানোর জন্য প্রয়োজন হয়—
-
বৈধ ওয়ার্ক পারমিট
-
কোম্পানির সাপোর্ট লেটার
-
ট্যাক্স ডকুমেন্ট
৮. ৯০ দিনের রিপোর্ট
থাইল্যান্ডে বিদেশি কর্মীদের প্রতি ৯০ দিন পরপর ইমিগ্রেশন অফিসে রিপোর্ট করতে হয়। এটাকে 90-day reporting বলা হয়। এটি না করলে জরিমানা হতে পারে।
৯. কাজের নিয়ম মেনে চলা
ওয়ার্ক পারমিটে যে কাজের ধরন উল্লেখ থাকে, কর্মীকে সেই কাজই করতে হয়। অন্য কোনো কোম্পানিতে কাজ করা বা কাজের ধরন পরিবর্তন করা আইনত অপরাধ।
যদি কোম্পানি পরিবর্তন করতে হয়, তাহলে নতুন করে ওয়ার্ক পারমিট আবেদন করতে হয়।
১০. গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা
বর্তমানে অনেক প্রতারক দালাল “১ মাসে থাইল্যান্ড ওয়ার্ক পারমিট নিশ্চিত” বলে অনেক টাকা দাবি করে। তাই কিছু বিষয় অবশ্যই যাচাই করা জরুরি—
-
এজেন্সির সরকারি লাইসেন্স আছে কিনা
-
কোম্পানির আসল জব অফার আছে কিনা
-
চুক্তিপত্র সঠিকভাবে করা হয়েছে কিনা
-
পাসপোর্ট নিজের কাছে রাখা
অবৈধভাবে বা ট্যুরিস্ট ভিসা নিয়ে গিয়ে কাজ করলে আইনগত সমস্যায় পড়তে পারেন।
উপসংহার
থাইল্যান্ডে ওয়ার্ক পারমিট ভিসা নিয়ে যেতে হলে মূলত তিনটি ধাপ গুরুত্বপূর্ণ—
১. বৈধ চাকরির অফার পাওয়া
২. নন-ইমিগ্র্যান্ট বি ভিসা নেওয়া
৩. থাইল্যান্ডে গিয়ে ওয়ার্ক পারমিট সংগ্রহ করা
সব কাগজপত্র ঠিক থাকলে পুরো প্রক্রিয়াটি সাধারণত ১ থেকে ৩ মাসের মধ্যে সম্পন্ন হতে পারে। তাই বিদেশে কাজ করতে যাওয়ার আগে সব তথ্য ভালোভাবে যাচাই করা এবং সরকারি নিয়ম মেনে আবেদন করা সবচেয়ে নিরাপদ উপায়।

Comments